৭১ বছর আগের গচ্ছিত অর্থ নিয়ে পাক-ভারত লড়াই

আজ থেকে ৭১ বছর তথা ১৯৪৮ সালের কথা। ব্রিটেনের ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনস্টার ব্যাংক অব লন্ডনে ১০ লক্ষ পাউন্ড জমা রেখেছিলেন হায়দরাবাদের নিজাম। দীর্ঘ সাত দশকে সেই অর্থ সুদাসলে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ পাউন্ড। কিন্তু তার মালিক কে?ভারতের যুক্তি, হায়দরাবাদ যেহেতু আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, সেহেতু ওই অর্থের মালিক ভারতেরই হওয়া উচিত। অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, ভারতের সঙ্গে লড়াই করার জন্য তারাই নিজামকে ওই অর্থ দিয়েছিল। তাই ওই সাড়ে তিন কোটি পাউন্ড তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, নিজামের দুই বংশধর মুকাররম জাহ এবং মুফাককাহম জাহ ছিলেন ভারতের পক্ষে। কিন্তু পাকিস্তানের দাবি নিজাম ওই অর্থ ব্রিটেনে তৎকালীন রাষ্ট্রদূত হাবিব ইব্রাহিম রহিমতোলার কাছে পাঠিয়েছিলেন। হাবিব ছিলেন নিজামের বিশ্বস্ত বন্ধু। তিনি ওই অর্থ গচ্ছিত রাখতে রাজি হন।

তিনিই ১০ লক্ষ পাউন্ড ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনস্টার ব্যাংক অব লন্ডনে জমা দেন।এ বিষয়ে বুধবার লন্ডনের কোর্টের বিচারপতি মার্কাস স্মিথ ১৬৬ পাতার রায় পড়ে শোনান। তাতে বলা হয়, হায়দরাবাদকে ভারতের অন্তর্ভূক্ত করার জন্য যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তার নাম অপারেশন পোলো। ১৯৬৫ সালে নিজাম বিদেশে গচ্ছিত অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব দেন।বিচারপতি বলেন, এটা ঠিকই যে তৎকালীন নিজাম ভেবেছিলেন ভারত জোর করে হায়দরাবাদকে তার অন্তর্ভূক্ত করতে চায়। তিনি অস্ত্রশস্ত্র কেনার জন্য কিছু অর্থ ব্যয়ও করেছিলেন। কিন্তু আমার মনে হয় না ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ তিনি অস্ত্র কেনার জন্য পেয়েছিলেন।পাকিস্তানের যুক্তি, ভারত বেআইনিভাবে হায়দরাবাদ দখল করেছিল। কাজেই নিজামের গচ্ছিত রাখা অর্থে তাদের অধিকার থাকতে পারে না। আর ভারত বক্তব্য হলো- হায়দরাবাদের অন্তর্ভূক্তি আইনি না বেআইনি সেটা এখানে আলোচ্য বিষয়ই নয়। আসল বিতর্ক হলো ওই অর্থ কার তা নিয়ে।তবে বিচারপতি উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক শুনে ভারতের পক্ষেই রায় দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares