রাষ্ট্রপতির পর এবার প্রধানমন্ত্রীর ছবি এঁকে চমকে দিলেন লিসা

কবিতা, গান, ছড়া, ছবি আঁকা কিংবা আবৃতি যেটাতেই যাক না কেন সেখানেই তার জুড়ি মেলা ভার। লেখা পড়ায়ও পিছিয়ে নেই। সামনে এসএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষার আসন্ন জেনেও সেই গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা এসেছে নিজের আঁকা ছবি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে। বলছিলাম দশম শ্রেণীতে পড়া লিসার কথা। পুরো নাম সামিয়া রহমান লিসা।

গতকাল বুধবার (১০ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী “বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ” উদযাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় নানা আনুষ্ঠানিকতায় শিশুরা বরণ করে নেয় প্রধানমন্ত্রীকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা প্রধানমন্ত্রীকে সামিয়া রহমান লিসার আঁকা ছবিটি দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী ছবিটি কে এঁকেছে জানতে চাইলে লিসা দর্শকের সাড়ি থেকে সাড়া দেন। প্রধানমন্ত্রী এসময় লিসাকে মঞ্চে ডেকে নেন এবং ছবিটির জন্য ভূয়ষী প্রশংসা করেন।

এর আগে, গত ১৬ই জুন নিজের হাতে রাষ্ট্রপতির স্কেচ এঁকে তা আবার নিজেই রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চমকে দেন লিসা। সেসময় জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা ২০১৯ এ জাতীয় পর্যায়ে আবৃত্তি বিষয়ে ‘গ বিভাগে’ ১ম স্থান অধিকার করে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন সামিয়া। এ সময় রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদকে নিজের হাতে আঁকা ‘রাষ্ট্রপতির স্কেচ’ উপহার দেয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন লিসা। তাতে রাজিও হয়ে যান তিনি। লিসার হাত থেকে স্কেচ গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি।

লিসা গোপালগঞ্জের বীণাপাণি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। আবৃত্তি, শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরি করে লিসা জাতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ৬ বার এবং রাষ্ট্রপতির হাত থেকে ৩ বার স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

সামিয়া রহমান লিসার বাবা এম ওয়ালিয়ুর রহমান। তিনি গোপালগঞ্জ বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের সহকারী প্রধান। মা রাজিয়া রহমান (গৃহিনী)। গ্রামের বাড়ী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পাইকান্দি গ্রামে। বর্তমান পরিবারের সাথে পুরাতন হাসপাতাল কোয়ার্টারে থাকেন সামিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares