বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, তলিয়ে যাবে বিশ্বের ৪৫টি শহর

বিশ্বজুড়ে উষ্ণায়ন ক্রমশ ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে, তা সবারই জানা। বিশ্বের সমস্ত রাষ্ট্রনেতারা এই আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে বৈঠকের পর বৈঠক করেও তেমন কোনো সমাধান সূত্র খুঁজে পাচ্ছেন না। হয়তো একদিন এই উষ্ণায়নের জেরেই মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। তাই যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সতর্ক করছেন আবহাওয়া বিশারদরা।এবার জাতিসংঘের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্তত ৪৫টি শহর রয়েছে রিস্ক জোনে। অর্থাৎ বরফ গলার কারণে এরা সমুদ্র সংলগ্ন অঞ্চলে থাকায় জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই ৪৫টি শহরের মধ্যে রয়েছে ভারতের কলকাতা, মুম্বাই, সুরাট ও চেন্নাই।এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, তুরস্কের ইস্তাম্বুল, আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্স, চীনের সাংহাই, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, এবং পাকিস্তানের করাচির মতো নামকরা শহর।ওই রিপোর্ট বলছে,

হিমালয়ের বরফ যে হারে গলছে, তার কারণেই বিপদসীমায় রয়েছে এই শহরগুলি। এসব শহরের অনেকাংশই পানিতে তলিয়ে যাবে। এ ছাড়া বাড়বে পরিবেশ দূষণ। প্রতিটি শহরের ১ কোটিরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর এই তালিকায় রয়েছে ঢাকাও। বলা হচ্ছে, বন্যার কারণে এই শহরের কিছু অংশ ডুবে যেতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। গ্রামাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেলে এর প্রভাবও ঢাকায় পড়বে। গৃহহীনদের অনেকেই চলে আসবে রাজধানী ঢাকায়। এর ফলে ঢাকাতেই ১ কোটিরও বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ছড়িয়ে পড়বে নানা রোগবালাই। এ ছাড়া নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো রয়েছেই।বলা হচ্ছে, এর আগে এভাবে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়তে দেখা যায়নি। জাতিসংঘের ওই রিপোর্ট বলছে, পানির স্তর বৃদ্ধির জেরে এই শতাব্দীর শেষে ১৪০ কোটি মানুষের ওপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে।বুধবার প্রকাশিত ওশেনস অ্যান্ড ক্রিওস্ফেয়ার শিরোনামের ওই রিপোর্ট বলছে, যদি সমুদ্রের পানি ৫০ সেন্টিমিটার করেও বাড়ে, তাহলেই ওই ৪৫টি শহর ভেসে যাবে। আরও বলা হয়েছে, আগে ১০০ বছরে একবার সমুদ্রের পানির স্তর বাড়তে দেখা যেত। বছর কয়েক পর থেকে প্রত্যেক বছর একটু একটু করে এ স্তর বাড়তে দেখা যাবে।সতর্ক করে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে, সামুদ্রিক প্রাণীদের মৃত্যু বাড়তে থাকবে। আর ধ্বংসাত্মক সাইক্লোনের পরিমাণও বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares