নিজের ফাঁদে অভিশংসনের মুখে ট্রাম্প

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসনের প্রস্তাব তোলা হয়েছে। এতে এরই মধ্যে অর্ধেকের বেশি আইনপ্রণেতা সমর্থন জানিয়েছেন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ইতিহাসে মার্কিন কোনো প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের ঘটনা বিরল হলেও ট্রাম্পের ভাগ্য সে দিকেই ধাবিত হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।গত নির্বাচনে রাশিয়া ও ইসরায়েলের গোপন আাঁতাতের মাধ্যমে ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন এমন অভিযোগ তো আছেই, এবার তার বিরুদ্ধে আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিদেশি শক্তির সাহায্য নিয়ে ঘায়েল করার নতুন অভিযোগ উঠেছে। ফলে নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই পড়েছেন ট্রাম্প।মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট অভিশংসন হলে তার ক্ষমতা হ্রাস, শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বিচার, অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রেসিডেন্টেরও বিচার এবং তাকে অপসারণ করা হতে পারে।অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রেসিডেন্ট পদ হারাবেন ট্রাম্প। তবে এ জন্য রিপাবলিকানদের দখলে থাকা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

এর আগে এরকম অনেক গুপ্তচরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্টের এই ধরনের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।কংগ্রেসম্যান রাজা কৃষ্ণমূর্তি এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আশঙ্কা যে প্রেসিডেন্ট ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক কোনও ব্যবস্থা নেন কি না।গত ২৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তাতে তিনি সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করার কথা বলেন। না হলে তিনি ইউক্রেনকে আর্থিক সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন। ফোনকলের ধারণ করা অংশ গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজ।এতে দেখা যায়, ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি এবং মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই তদন্তকাজ করতে ইউক্রেন প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছেন।জো বাইডেন ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন। বাইডেনের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারকে তদন্তের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি মঙ্গলবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ট্রাম্পকে অভিশংসনের মুখে পড়তে হতে পারে। যদিও সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় ট্রাম্প অভিশংসিত হবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares