দুর্গার মূর্তি তৈরিতে লাগে পতিতালয়ের মাটি, কিন্তু কেন?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন শুরু করতে যাচ্ছেন তাদের সবচেয়ে সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পূজা। এ উপলক্ষে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা। তবে হিন্দু শাস্ত্র মতে, প্রতিমা তৈরিতে কয়েকটি বিশেষ উপকরণ লাগে। যেগুলি ছাড়া দুর্গা প্রতিমা গড়া সম্ভব নয়।ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, পবিত্রতার প্রতিমূর্তি ‘মা’ দুর্গার মূর্তি তৈরি করতে প্রথমেই লাগে বিশেষ কিছু জায়গার মাটি। রাজবাড়ির মাটি, চৌমাথার মাটি, গঙ্গার দুই তীরের মাটি ও ‘অশুচি’ এলাকা বা নিষিদ্ধ পল্লীর মাটি৷ এর সঙ্গে লাগে গাভীর মূত্র, গোবর, ধানের শিষ, ‘পবিত্র’ গঙ্গার জল।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূজার কয়েক মাস আগে থেকেই মৃৎশিল্পীরা বিভিন্নভাবে যোগাড় করতে শুরু করেন এই সমস্ত উপাদান। নিষিদ্ধ পল্লীতে থাকা বারাঙ্গনার ঘরের দরজার বাইরে থেকে মাটি সংগ্রহ করা হয় এবং এই আচার পালন করা হয়ে আসছে প্রাচীনকাল থেকে।কিন্তু কেন এই রীতি!

একজন কামাতুর পুরুষ যখন যৌনকর্মীর ঘরে প্রবেশ করে, দরজার বাইরের পদধুলায় পড়ে থাকে তার সারাজীবন ধরে সঞ্চয় করা সকল পুণ্য। কারণ সে সকল পুণ্য ঘরের বাইরে রেখে ঘরে প্রবেশ করছে এবং ঘর থেকে পাপ অর্জন করে বাইরে আসবে।প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রজ্ঞরা মনে করেন, নিষিদ্ধ পল্লীর গণিকারাই প্রকৃতপক্ষে সমাজের সবচেয়ে পবিত্র অংশ। কারণ নারীকে পতিতা বানায় পুরুষ। আবার তারাই বারবণিতার কাছে গিয়ে যৌনসুখ পয়সা দিয়ে কিনে তাকেই আবার নষ্ট মেয়ে বা অপবিত্র ঘোষণা করে।অন্যদিকে, পুরুষের মানুষের কামনা, বাসনা, লালসার গরল গ্রহণ করে পতিতারা সমাজকে বিষমুক্ত করে, নিষ্কলুষ রাখে, পুণ্যার্জন করে। তাদের পদধুলিও লেগে থাকে তাদের ঘরের দরজার বাইরের মাটিতে। তাই এ মাটি ‘পবিত্রতম’।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিন্তু রাজন্যবর্গদের পেশি ও আর্থিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা ছিল না প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রজ্ঞদের। এই অভিশপ্ত পেশার বিলোপ ঘটানোও সম্ভব ছিল না। তাই তারা সুকৌশলে সমাজের এই সব দুঃখিনী নারীর সমাজের পবিত্রতম অনুষ্ঠানে অঙ্গীভূত করে সমাজকে চাবুক মেরে গেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares