এই দেশ, মাটি ও মানুষের কথা ভাবতে ভাবতেই বিদায় নিলেন আবরার!

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষর্থী আবরার ফাহাদকে ‘শিবিরকর্মী’ সন্দেহে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে।

রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয়তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। আবরার ফাহাদের শরীরের অনেক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের পেছনে, বাম হাতে ও কোমর থেকে পায়ের নিচ পর্যন্ত আঘাতের কালো দাগ দেখতে পাওয়া গেছে।

দেশ এবং দেশের বাইরের চলমান ইস্যুগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাঝেমধ্যেই বিশ্লেষণধর্মী পোস্ট দিতেন ফাহাদ। এ সংক্রান্ত অন্যান্যদের পোস্টেও ছিলো তার সরব পদচারণা।

রোববার রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফাহাদ গত ৫ অক্টোবর ফেসবুকে দেয়া একটি পোস্টে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করেন। ওই পোস্টের জের ধরেই তাকে শিবিরকর্মী সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে রুম থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ সহপাঠীদের।

পুলিশ ইতিমধ্যে ৯ জনকে আটক করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মোট চৌদ্দজনকে সনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়। আটকরা হলেন, বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, যুগ্ম সম্পাদক মুহতাসিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতায়ুল ইসলাম জিয়ন, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্না, সমাজসেবা উপ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল। এছাড়াও রয়েছেন তানভিরুল আবেদিন ইথান, মুনাতাসির আল জেমি ও রবিন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করে আজ বিকেলে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। যেখানে এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দুই সদস্য বিশিষ্ট্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়।

যে পোস্টটির কারণে ফাহাদের আজ এ করুণ পরিণতি, সেই পোস্টটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো:

১. (১৯)৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

২. কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চাই না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড় লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।

৩. কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।

হয়তো এ সুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন-
“পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মত সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares