ইমরানের ভাষণের পর কাশ্মিরে ফের কারফিউ, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ

গত ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার আগ থেকেই মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মির পুরো পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন ছিল। লাখ লাখ ভারতীয় সেনা কাশ্মিরিদের এক প্রকার ঘিরে রেখেছে। সেইসঙ্গে মোবাইল-ইন্টারনেটসহ যাবতীয় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পাশপাশি জারি রয়েছে কারফিউ।তবে গত কয়েক দিনে কোথাও কোথাও কারফিউ শিথিল করা হয় এবং সীমিতি পরিসরে ল্যান্ডফোন চালুর সুযোগ দেয় ভারত সরকার। এর মধ্যেই গত শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার ওই বক্তব্যের পরই কাশ্মিরে ফের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার জাতিসংঘে ইমরান খান আবারো পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দেন। কাশ্মিরে কারফিউ তুলে নিলে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা শিথিল করলে রক্তগঙ্গা বয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন পাক প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘

‘১৩০ কোটির দেশ ভারতের বাজারকে তোষণ করবে, নাকি নিরাপরাধ মানুষকে সাহায্য করবে, সেটা আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীকে ভেবে দেখতে হবে। সেটা না হলে ভালোর আশা করতেই পারেন, কিন্তু খারাপের জন্যও তৈরি থাকতে হবে।’’ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, পাক প্রধানমন্ত্রীর ওই ভাষণের পর শুক্রবার রাত থেকেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করে কাশ্মির উপত্যকায়। একাধিক জায়গায় ইমরান খানের সমর্থনে স্লোগান দিয়ে মিছিল হয়। কাশ্মিরের স্বাধীনতাও দাবি করেন তারা। তার পর শনিবার থেকেই নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আরও বড় আকারে এই ধরনের প্রতিবাদ মিছিল বা বিক্ষোভের মতো ঘটনা ঘটতে পারে— এই আশঙ্কায় নতুন করে নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনীর এক পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।নতুন করে সব জায়গায় কারফিউ জারির পাশাপাশি মোবাইল, ইন্টারনেট এবং ল্যান্ড ফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় যানবাহন চলাচলের ওপরেও নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে নতুন করে। শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীকে মাইকে এ বিষয়ে ঘোষণা করতেও দেখা গেছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares