আবরার নেই, মানতেই পারছে না পরিবার-এলাকাবাসী

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার খবরে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রোকেয়া খাতুন। কোনো সান্ত্বনাতেই থামছে না তার কান্না। কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের বাসিন্দা বরকত উল্লাহর বড় ছেলে আবরার ফাহাদ। ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী, ধার্মিক ও শান্ত প্রকৃতির। রাজনীতিও করতেন না তিনি। ২০১৫ সালে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে রাজধানীর নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন ফাহাদ।

পরে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে বুয়েটে তড়িৎ কৌশল বিভাগে ভর্তি হন। মেধাবী এ ছাত্রকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

তারা জানান, আবরার ফাহাদের কোনো শত্রু ছিল না। তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমর্থক। তাদের সন্তানকে কেনো এভাবে জীবন দিতে হলো, বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবারের সদস্যেরা।

সোমবার সকালে (৭ অক্টোবর) নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারের কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মাতম চলছে। পরিবারের সদস্যেরা বুঝে উঠতে পারছেন না, এত মেধাবী, শান্ত ছেলেটিকে কে হত্যা করতে পারে!

গতকাল রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই–বাংলা হল থেকে আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের নিরীক্ষক কর্মকর্তা ছিলেন। মা রোকেয়া খাতুন একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড়। ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সেও ঢাকা কলেজের হোস্টেলে থাকে। বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের কাছেই তাঁর হোস্টেল। কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাসার পাশেই তাদের বাড়ি।

পরিবারের সদস্যেরা জানান, ১০ দিন আগে ছুটিতে দুই ভাই বাড়িতে এসেছিলেন। ২০ তারিখ পর্যন্ত বাড়িতে থাকতে চেয়েছিলেন আবরার। তবে সামনে পরীক্ষা, পড়া হচ্ছে না বলে গতকাল ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares