অর্থের অভাবে বেতন দিতে না পারা সেই যুবকই আজ অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। কিন্তু জেনে অবাক হওয়ার মতো তথ্য হচ্ছে অর্থমন্ত্রী যখন স্কুলে পড়তেন তখন অর্থের অভাবে তিনি স্কুলের বেতন পর্যন্ত দিতে পারেননি। তবে থেমে থাকেননি তিনি। অধ্যবসায়, মেধা আর সততা দিয়ে আজ তিনি দেশের অর্থমন্ত্রী।শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে স্কুলজীবনে তার অর্থাভাবের এসব স্মৃতিচারণ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।তিনি বলেন, ‘বেতন দিতে না পারায় ক্লাস সেভেন থেকে টেন পর্যন্ত তিনবার নাম কাটা গেছে। স্কুলে যাওয়ার শুরু থেকেই বেতন দিতে পারিনি। আমার বেতন দিয়েছেন গ্রামের মানুষ।’কলেজে ভর্তি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কলেজে যখন ফরম ফিলাপ করবো, সে সময় টাকা ছিল না। একদম শেষ সময়ে ফরম ফিলাপ করেছিলাম। আমার গ্রামের হাবিবুল্লাহ মিয়া নামের এক হৃদয়বান ব্যক্তি ফরম ফিলাপের টাকা দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করুক।’শিশু কিশোরদের অনুপ্রাণিত করতে আ. হ. ম. মুস্তফা কামাল বলেন, ‘লজিংয়ে থেকে পড়াশোনা করেছি।

অর্থের জন্য টিউশনি করেছি। আমি এমন এক যুবক ছিলাম, যা স্কুলে পড়ার টাকা ছিল না। সেই তিনিই যদি আজ দেশের অর্থমন্ত্রী হতে পারেন। তাহলে আমার সামনে তোমরা যারা সম্ভাবনাময় শিশু কিশোর রয়েছো, তোমরা কেনো হতে পারবে না। আমি মনে করি, তোমরা অবশ্যই অনেক বড় হতে হতে পারবে, মানুষের মতো মানুষ হতে পারবে ইনশাল্লাহ।’অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার। এই দেশ অনেক বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আমি চাই তোমরা সেই বড় স্বপ্নের দিকে ধাবিত হও। আদর্শ মানুষ হও, দেশ প্রেমে নিজেদের উদ্ধুদ্ধ করো। তোমরা যদি এখন থেকে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারো তাহলে তোমরা অবশ্যই নিজেদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।’আইসিসি‘র সভাপতি পদ ছেড়ে দেয়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা হয়তো জানো, আমি আইসিসি‘র একজন নির্বাচিত সভাপতি ছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম আমার জন্মভূমি, আমার দেশ আক্রান্ত হচ্ছে। তখন আমি দেশের স্বার্থে আইসিসির সেই লালায়িত পোস্ট থেকে পদত্যাগ করেছি। সেদিন আইসিসি থেকে পদত্যাগ করে দেশের পক্ষে, দেশের মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম। সামনে চলার পথে তোমাদেরকেও এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। সবসময় মনে রাখবে, সকল সিদ্ধান্ত যেন হয় দেশের স্বার্থে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares